কলকাতা: বাংলায় ভোটের রাজনীতি আর মিউজিক ভিডিও এখন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একুশের নির্বাচনের সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে 2026-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই ময়দানে নেমে পড়লেন তৃণমূলের যুব নেতা তথা প্রবক্তা দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর হাত ধরেই মুক্তি পেল 2026 নির্বাচনের নতুন থিম সং ‘আসবি নাকি’ (Asbi Naki)।
বাংলার রাজনীতিতে স্লোগান যে কত বড় অনুঘটক হতে পারে, তা গত বিধানসভা নির্বাচনেই হাড়হাড়িয়ে টের পেয়েছিল বিরোধীরা। 2021 সালে দেবাংশু ভট্টাচার্যের (Debangshu Bhattacharya) কলম থেকে বেরোনো ‘খেলা হবে’ স্রেফ একটি স্লোগান ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের জয়ের প্রধান চালিকাশক্তি। 2026-এর মেগা লড়াইয়ের আগে সেই দেবাংশুই এবার ময়দানে নামলেন তাঁর নতুন ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নিয়ে। তৃণমূলের আসন্ন নির্বাচনী রণকৌশলের নতুন ট্যাগলাইন— ‘আসবি নাকি?’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন মানেই কেবল জনসভা বা ইশতেহার নয়, বরং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ আর একঝাঁক ট্রেন্ডি স্লোগান। 2019-এর লোকসভা নির্বাচনে ‘মমতাদি আরেকবার’ কিংবা ‘দিল্লি যাবে হাওয়াই চটি’র মাধ্যমে নজর কেড়েছিলেন তৃণমূলের এই তরুণ তুর্কি। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে ‘খেলা হবে’ শব্দবন্ধটি যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তা কার্যত ইতিহাস। বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ কিংবা হাই-ভোল্টেজ প্রচারের সামনে দেবাংশুর সেই গানটিই ছিল ঘাসফুল শিবিরের প্রধান ডিফেঞ্চ। ভাঙা পা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই আর এই স্লোগান— দুইয়ের মিশেলে চুরমার হয়ে গিয়েছিল মোদী-শাহের বাংলা জয়ের স্বপ্ন।
2024-এর লোকসভা পার করে এবার পাখির চোখ 2026। বাংলার মসনদ ধরে রাখতে এবং কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে রাখতে ফের সৃজনশীল কলম ধরলেন দেবাংশু। নতুন এই ‘আসবি নাকি?’ স্লোগানটির মধ্যে একধরণের চ্যালেঞ্জ এবং আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সোজা কথায়, বিরোধীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই শব্দচয়ন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ‘খেলা হবে’ স্লোগানটি যেভাবে আট থেকে আশি সকলের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল, ‘আসবি নাকি?’ কি পারবে সেই ম্যাজিক ফেরাতে?
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গানটি ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। গানটিতে বীরভূমের সিগনেচার ডিজে বিট ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলার গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ জনপ্রিয়। আগামী দিনে তৃণমূলের জনসভাগুলোতে এই গানটি যে প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এই ‘ডিজে’ রাজনীতির পাল্টা বিজেপি কোনো রণকৌশল নেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।